শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

 

উপমহাদেশীয় রাজনীতির কবলে পড়ে সিলেটকে কখনও আসামের সাথে, কখনও বা পূর্ববঙ্গের সাথে থাকতে হয়েছে। এ বিষয়টি অঞ্চলের শিক্ষা ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলেছিল। সাধারণ জনগণের মধ্যে লেখাপড়ার বিষয়টি উন্মুক্ত হয় ১৯৪৭ সালের পরে, বিশেষ করে ১৯৬০-এর পরে। স্বাধীনতার পর তা একটি পরিপক্কতা লাভ করে। সিভিল সার্ভিস থেকে শুরম্ন করে প্রতিরক্ষা, চিকিৎসা, রাজনীতি সকল ক্ষেত্রেই সিলেটের ছাত্রছাত্রী বা লোকজন বিশেষ ব্যুপত্তি অর্জন করেন। ধীরে ধীরে তা বিপরীত স্রোত ধরে তা আজ প্রায় শূন্যের কোঠায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠারও পূর্বে এমসিকলেজে সংস্কৃতসহ অনেক বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু ছিল। ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ বিভক্ত হওয়ায় সিলেটের জন্য বরাদ্দকৃত বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৯৪৮ সালে গৌহাটিতে স্থাপিত হয়। পরবর্তীতে কয়েক দশকের আন্দোলনের পর শেষ পর্যমত্ম গত শতাব্দীর আশির দশকের শেষভাগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লাভ করে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেজেট নোটিফিকেশন হয় ১৮ই মার্চ, ১৯৮৭ তারিখে। প্রকল্প পরিচালক নিযুক্ত হন প্রফেসর সদরম্নদ্দিন আহমদ চৌধুরী। তিনিই আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালের ১৪ ফেব্রম্নয়ারি একাডেমিক কার্যক্রম শুরম্নর মাধ্যমে যে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরম্ন করেছিল তা আজ দুই দশকের বেশি সময়ে চার শতাধিক শিক্ষক ও বার হাজারের বেশি ছাত্রছাত্রী নিয়ে এক মহীরম্নহে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার মানের দিক থেকে এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি শুধু বাংলাদেশেই নয়, বাংলাদেশের বাইরে যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার আধুনিক যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকক্ষ। তাছাড়া, প্রযুক্তির ব্যবহারে ফাইবার ক্যাবল স্থাপনের মধ্য দিয়ে নতুন যুগের উন্মোচন হয়েছে।

১৯৯১ সালের ১৪ ফেব্রম্নয়ারি একাডেমিক কার্যক্রম শুরম্নর সময়ে বিভাগ ছিল তিনটি: পদার্থবিদ্যা, রসায়নশাস্ত্র ও অর্থনীতি, শিক্ষক ছিলেন ১৩ জন এবং ছাত্রসংখ্যা ছিল ২০৫। বর্তমানে রয়েছে ৭টি অনুষদ, ২৬টি বিভাগ এবং ১টি ইনস্টিটিউট। বিশ্ববিদ্যালয়টির রয়েছে ৪টি অনুমোদিত (affiliated) মেডিকেল কলেজ এবং ১টি অনুমোদিত (affiliated) ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ যেখানে পড়াশোনা করে চার হাজারেরও অধিক ছাত্রছাত্রী। অনুমোদিত (affiliated) মেডিকেল কলেজগুলো হচ্ছে :

ক. সিলেট এমএজিওসমানী মেডিকেল কলেজ

খ. জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ

গ. সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ

ঘ. নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ

অনুমোদিত (affiliated)ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হচ্ছে :

সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ

অন্যান্য অনুমোদিত কলেজ :

          ক. বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী নার্সিং কলেজ,সিলেট

          খ. নর্থইস্টনার্সিং কলেজ, সিলেট

          গ. সিলেট নার্সিং কলেজ

 

১ম সমাবর্তন অনুষ্ঠান

২৯ এপ্রিল ১৯৯৮ তারিখে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম সমাবর্তন সুষ্ঠ ও সুন্দর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকে ১৯৯৪-৯৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তিকৃত ছাত্র- ছাত্রীদেরকে স্নাতক সম্মান, স্নাতকোত্তর, এম.বি.বি.এস ও ডি.ভি.এম ডিগ্রির মূল সনদপত্র প্রদান করা হয়। এ সমাবর্তনের আওতাধীন স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা ছিল মোট ১,১৫০ জন। বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের চ্যন্সেলর মহামান্য রাষ্ট্রপতি বিচারপতি শাহাব উদ্দিন ১ম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ছাত্র- ছাত্রীদেরকে মূল সনদপত্র প্রদান করেন।

 

২য় সমাবর্তন অনুষ্ঠান

৬ ডিসেম্বর ২০০৭ তারিখে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় সমাবর্তন সুষ্ঠ ও সুন্দর পরিবেশে সম্পন্ন হয়। এই সমাবর্তনে ১৯৯৫-১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮-১৯৯৯ শিক্ষাবর্ষের ভর্তিকৃত ছাত্র- ছাত্রীদেরকে স্নাতক সম্মান, স্নাতকোত্তর, এমবিবিএস, ডিভিএম, ডিপ্লোমা, এমফিল, এমএস এবং পিএইচডি ডিগ্রির মূল সনদপত্র এবং ১৯৯৯-২০০০ ও ২০০০-২০০১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত সকল ছাত্রছাত্রীর স্নাতক সম্মান ডিগ্রীর মূল সনদপত্র প্রদান করা হয়। এ সমাবর্তনে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা ছিল মোট ৬,৫৩৭ জন। বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের চ্যান্সেলর মহামান্য রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহমেদ উক্ত সমাবর্তন সভায় উপস্থিত থেকে সনদপত্র বিতরণ করেন।

ছাত্রছাত্রীদের আবাসনের অনেক সুযোগ ইতোমধ্যে সৃষ্টি হয়েছে যদিও প্রয়োজনের তুলনায় তা কম। ছাত্রছাত্রীদের জন্য রয়েছে আবাসনের ব্যবস্থা।

 

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ, অনুষদের অধীন বিভাগসমূহ ও ইনস্টিটিউট

 

1. School of Agriculture and Mineral Sciences

(a) Department of Forestry and Environmental Science

 

2. School of Applied Sciences and Technology

(a) Department of Architecture

(b) Department of Chemical Engineering and Polymer Science

(c) Department of Civil and Environmental Engineering

(d) Department of Computer Science and Engineering

(e) Department of Electrical and Electronics Engineering

(f) Department of Food Engineering and Tea Technology

(g) Department of Industrial and Production Engineering

(h) Department of Petroleum & Geo-resources Engineering

(i) Department of Petroleum and Mining Engineering

 

3. School of Life Sciences

(a) Department of BioChemistry and Molecular Biology

(b) Department of Genetic Engineering & Biotechnology

 

4. School of Management and Business Administration

(a) Department of Business Administration

 

5. School of Physical Sciences

(a) Department of Chemistry

(b) Department of  Geography & Environment

(c) Department of Mathematics

(d) Department of Physics

(e) Department of Statistics

 

6. School of Social Sciences

(a) Department of Anthropology

(b) Department of Bangla

(c) Department of Economics

(d) Department of English

(e) Department of Political Studies

(f) Department of Public Administration

(g) Department of Social work

9h) Department of Sociology

 

7. School of Medical Sciencesএর আওতায় চারটি মেডিকেল কলেজ রয়েছে :

            ক. সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ

            ক. জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ

            ক. নর্থ-ইস্ট মেডিকেল কলেজ

            ক. সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ

 

ইনস্টিটিউট

Institute of Information and Communication Technology

উপাচার্য : প্রফেসর মোঃ সালেহ উদ্দিন

 

বিগত তিন বছরে বাসত্মবায়িত/ বাসত্মবায়নাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম :

১. বিগত ৩ (তিন) বছরে উন্নয়ন কর্মসূচি

৩ (তিন) বছরে জুন, ২০১১তে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২টি উন্নয়ন প্রকল্প ও রাজস্ব বাজেটের আওতায় ১টি উন্নয়ন কর্মসূচি বাসত্মবায়িত হয়েছে। বর্তমানে ২টি উন্নয়ন প্রকল্প এবং নতুন ১টি উন্নয়ন কর্মসূচি বাসত্মবায়নাধীন আছে। এ সকল উন্নয়ন প্রকল্প/ কর্মসূচির অনুকূলে মোট ৯১৩৮.৬৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়। উক্ত বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে বিগত ৩ (তিন) বছরে ৮০১১.১৬ লক্ষ টাকা অমত্মর্ভুক্ত আছে। এর মধ্যে ৩৮২০.৯৫ লক্ষ টাকা মার্চ, ২০১২ পর্যমত্ম সরকারের নিকট হতে পাওয়া গেছে এবং সমুদয় অর্থ ব্যয় হয়েছে।

বিগত তিন বছরে বাসত্মবায়িত কাজ সমূহের মধ্যে নির্মিত ছাত্র হলে (৮৪+১২০) ২০৪ জন ছাত্রের ও ছাত্রী হলে ৭০ জন ছাত্রীর আবাসনের ব্যবস্থা হয়েছে। ১ম শিক্ষাভবনের ১ম ব্লকের ক্ষতিগ্রসত্ম উইং পুন:নির্মাণে ২০০ জন ছাত্র-ছাত্রীর ক্লাশ-রম্নম, ল্যাবরেটরী রম্নম প্রভৃতির শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামে ১২০০ আসনের জাতীয় দিবস, সিমেনার, সিম্পোজিয়াম, ওয়ার্কশপ প্রভৃতি অনুষ্ঠান সম্পাদনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

 

২. চলমান প্রকল্প

বাসত্মবায়নাধীন প্রকল্প ২টির মধ্যে ছাত্রী হল (বেগম সিরাজুন্নেছা হল) নির্মাণ প্রকল্পের বরাদ্দকৃত ১৪০৮.০০ লক্ষ টাকার মধ্যে মার্চ, ২০১২ পর্যমত্ম ৮১৪.৫০ লক্ষ টাকা সরকারের নিকট হতে পাওয়া গেছে এবং সমুদয় অর্থ ব্যয় হয়েছে এবং ৫৭.৮৫% বাসত্মব অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। প্রকল্পটি আগামী ৩১-১২-২০১২ তারিখে সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত আছে। এ প্রকল্প বাসত্মবায়নের পর ৪৩০ জন ছাত্রীর আবাসনের ব্যবস্থা হবে।

আইআইসিটি (ড. এম.এ.ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবন) স্থাপন প্রকল্পের বরাদ্দকৃত ৩৪০০.০০ লক্ষ টাকার মধ্যে অদ্যাবধি ৭০০.০০ লক্ষ টাকা পাওয়া গেছে এবং সমুদয় অর্থ ব্যয় হয়েছে এবং ২০.৫৯% বাসত্মব অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। ২০১২-১৩ অর্থ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে এ প্রকল্পের অনুকুলে ১৩০০.০০ লক্ষ টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন। জুন, ২০১৪তে প্রকল্পটি সমাপ্ত হবে।

রাজস্ব বাজেটের আওতায় বিভিন্ন কাজের জন্য মোট ৮৯৬.৭১ লক্ষ টাকার বরাদ্দ সম্বলিত নতুন উন্নয়ন কর্মসূচি গত জানুয়ারি, ২০১২ তারিখে অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রশাসন ভবন ২য় ব্লকের ৪র্থ তলা, ১ম শিক্ষাভবনের ১ম ব্লকের ক্ষতিগ্রসত্ম উইং এর ৩য় ও ৪র্থ তলা নির্মাণ এবং ওয়ার্কশপ ও গ্যারেজ সম্প্রসারণ এর জন্য ৭৮০.৯১ লক্ষ টাকার কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে এবং অবশিষ্ট ১১৬.০০ লক্ষ টাকার কাজ শুরম্নর ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন আছে। কর্মসূচিটি জুন, ২০১৩তে সমাপ্ত হবে।

 

৩. প্রস্তাবিত উন্নয়ন কার্যক্রম

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আবাসিক সমস্যা নিরসনে সৈয়দ মুজতবা আলি হলের অবশিষ্টাংশ নির্মাণ প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের ক্লাশ-রম্নম, ল্যাবরেটরী রম্নম প্রভৃতির জন্য শিক্ষা ভবন এবং পিএইচডি শিক্ষার্থীর জন্য Centre of excellence নির্মাণ প্রয়োজন। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসিক সমস্যা নিরসনে নূন্যতম ২টি ষ্টাফ কোয়ার্টার, ডরমিটরী ভবন নির্মাণ প্রয়োজন। এ ছাড়াও ইউনিভার্সিটি ক্লাব, মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য নির্মাণ, স্টেডিয়াম, বাউন্ডারী ওয়াল, জলাধার নির্মাণ প্রভৃতি জন্য ৮০০০.০০ লক্ষ টাকার বরাদ্দ প্রয়োজন।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়